প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যে কোনো দুর্যোগেই দেশের মানুষের পাশে সব সময় থাকে পুলিশ। পাশাপাশি মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগ ও মানুষের জানমাল বাঁচাতে ভূমিকা রাখে পুলিশ। উৎসর্গ করে নিজের জীবন। যেকোনো ঝুঁকি নিতে পিছপা হয় না। এটাই হচ্ছে পুলিশের বড় কাজ যা পুলিশ দক্ষতার সঙ্গে করে যাচ্ছে।
মঙ্গলবার (৩ জানুয়ারি) সকালে রাজারবাগ পুলিশ প্যারেড মাঠে ‘পুলিশ সপ্তাহ ২০২৩’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৩-১৪ সালে তাণ্ডব-অগ্নিসন্ত্রাসের ফলে প্রায় সাড়ে তিন হাজারের মতো মানুষ অগ্নিদগ্ধ হয়েছিল। মৃত্যুবরণ করে ৫০০ মানুষ, যেখানে দগ্ধ হয়ে পুলিশ সদস্য নিহত হয় ২৯ জন, আহত হয় আরও অনেকে। সে সময় পুলিশের সদস্যরা জীবন বাজি রেখে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডকে রুখে দিয়ে জনগণের নিরাপত্তা দিয়েছেন। দুর্ভাগ্য হলো, অনেক পুলিশ সদস্য আগুনে দগ্ধ হয়ে বেঁচে আছেন, কিন্তু কারো চেহারা এতো বিকৃত হয়েছে যে তারা মানুষের সামনে যেতে পারেন না। এমন ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতি বাংলাদেশে যেন আর না ঘটে।
তিনি আরও বলেন, এই বিএনপি, জামায়াত-শিবিররা যেভাবে হত্যা করেছে প্রকাশ্যে দিবালোকে, এভাবে পুলিশের গায়ে কখনো কেউ হাত দেয়! তা কখনো দেখা যায় না। যদিও তা বাংলাদেশে ঘটেছে। এছাড়া সাড়ে ৩ হাজার বাস-ট্রাক, ১৯টি ট্রেন, ১১টি লঞ্চ পুড়িয়ে ধ্বংস করে। ৭০টি সরকারি ও ৬ ভূমি অফিস পুড়িয়ে দেয়।
শেখ হাসিনা বলেন, জঙ্গিবাদের হাত থেকে আমরা দেশকে রক্ষা করেছি। জঙ্গি, সন্ত্রাস ও মাদক প্রতিরোধেও পুলিশ ভূমিকা রাখছে। জনগণের পুলিশ হিসেবেই জনগণের সেবা দিচ্ছে পুলিশ। পুলিশের ওপর জনগণের যে আস্থা তৈরি হয়েছে, সেটা ধরে রাখতে হবে।
সরকারপ্রধান বলেন, অনেক চক্রান্ত হয়েছে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশ কখনও ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে না। কোনো প্রতিবন্ধকতা যেন অগ্রযাত্রায় বাধা না হয়ে দাঁড়ায়, মন্দার ধাক্কা যেন না আসে, সেদিকে আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ ও তার প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট পরিস্থিতি তৈরি না হলে আমরা আরও এগিয়ে যেতে পারতাম। ১৯৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। এ সময় পুলিশকেও আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞানসম্মত স্মার্ট পুলিশ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।