জামায়াতের সাবেক আমির মকবুল আহমাদ আর নেই

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মকবুল আহমাদ আর নেই। মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে রাজধানীর কল্যাণপুরে ইবনে সিনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

শিক্ষাজীবন
পূর্বচন্দ্রপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তার প্রাথমিক শিক্ষা জীবন শুরু হয়। প্রাথমিক শিক্ষা শেষে দাগনভূঞার কামাল আতাতুর্ক হাই স্কুলে ভর্তি হন। এরপর ১৯৫৭ সালে কৃতিত্বের সাথে জায়লস্কর হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাশ করেন। তিনি ১৯৫৯ সালে বিএ পাস করেন।

কর্মজীবন
মকবুল আহমদ বিএ পাস করার পর সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন। একবছর পর সরকারি চাকরি ছেড়ে তিনি শিক্ষকতা পেশায় যোগদান করেন এবং ১৯৭০ সাল পর্যন্ত সরিষাদী উচ্চ বিদ্যালয় ও ফেনী স্ট্রোল হাইস্কুলে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ১৯৭০ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত ফেনী মহকুমাধীন ‘দৈনিক সংগ্রাম’ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

রাজনৈতিক জীবন
ছাত্রজীবন থেকেই মকবুল আহমদ রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। ছাত্রজীবন শেষ করে ১৯৬২ সালে তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন এবং ১৯৬৬ সালে জামায়াতের রুকন (সদস্য) হন। ১৯৬৭ সাল থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত তিনি ফেনী শহর আমিরের দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৯৬৮ সাল থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত মহকুমা আমিরের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭০ সালের শেষ দিকে তিনি বৃহত্তর নোয়াখালী জেলা আমিরের দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭০ সালের প্রাদেশিক পরিষদে নির্বাচনে ফেনী সদর ও সোনাগাজী নির্বাচনী এলাকায় জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে এবং ১৯৮৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-২ আসন থেকে অংশ নেন। মকবুল আহমাদ ১৯৭৯ সাল থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত জামায়াতের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

১৯৮৯ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনি জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০০৩ থেকে তিনি জামায়াতের নায়েবে আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১০ সালের জুনে দলের তৎকালীন আমির মতিউর রহমান নিজামী গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে মকবুল আহমাদ ভারপ্রাপ্ত আমিরের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৬ সালের ১৭ অক্টোবর তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর তৃতীয় আমির হিসেবে নির্বাচিত হন।

ডা. শফিকুর রহমানের শোক
সাবেক আমিরে জামায়াত মকবুল আহমাদের ইন্তেকালে শোক প্রকাশ করেছেন সংগঠনটির বর্তমান আমি ডা. শফিকুর রহমান। তার ফেসবুক পেইজ থেকে বক্তব্যটি এখানে তুলে ধরা হলো।

চলে গেলেন ইসলামী আন্দোলনের এক বর্ণালী মুজাহিদ সাবেক আমীরে জামায়াত জনাব মকবুল আহমাদ। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন…।

আজীবনের এই দা’য়ী ইলাল্লাহ জামায়াতে ইসলামীর কঠিনতম সময়ের কাণ্ডারী। আমাদের জন্য রেখে গেলেন অনেক শিক্ষা এবং উদাহরণ। রাব্বুল আলামীন তাঁর এই গোলামের তামাম জিন্দেগীর সমস্ত ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে নেকিতে পরিণত করে দিন।

তাঁর নেক আমলগুলো কবুল করুন। শহীদ হিসেবে কবুল করে তাকে সম্মানিত করুন এবং জান্নাতুল ফিরদাউস নসীব করুন। মহান রবের কাছে আবেগ ও বুকভরা আকুতি।

মকবুল আহমদের পরিবারের খোঁজ নিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মকবুল আহমাদের ইন্তেকালের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিমের কাছে ফোন দিয়ে তিনি মরহুমের পরিবারের খোঁজ নেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের মিডিয়া উইং কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান।

শায়রুল কবির খান বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম সাহেবকে ফোন দিয়ে বিএনপি মহাসচিব মরহুম মকবুল আহমাদ সাহেবের পরিবারের খোঁজ খবর নিয়েছেন। এসময় বিএনপি মহাসচিব মরহুমের মৃত্যুতে তার পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন।

এদিকে মকবুল আহমাদের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন এলডিপির চেয়ারম্যান কর্ণেল (অব:) অলি আহমেদ (বীর বিক্রম)।

এ বিষয় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর মকবুল আহমাদ সাহেবের মৃত্যুতে সারাদেশ শোকে আচ্ছন্ন। তারই ধারাবাহিতায় শোক জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও এলডিপির চেয়ারম্যান কর্ণেল (অব:) অলি আহমেদ (বীর বিক্রম)।

কর্ণেল অলি আহমেদ মরহুমের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে বলেন, ‘আল্লাহতায়ালা মকবুল আহমাদকে মাফ করে দিন এবং তাকে জান্নাত দান করুন। তিনি ছিলেন নম্র, ভদ্র ও বিনীত একজন মানুষ। আমরা তার অভাব অনুভব করব। আমি তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.