আ ন ম সেলিম,পটিয়া(চট্টগ্রাম):
চট্টগ্রাম -১২(পটিয়া) আসনের সাবেক এমপি ও হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর এবং তার স্ত্রী ও কন্যার বিরুদ্ধে প্রায় ১৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সোমবার (৯ মার্চ) মামলার বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশন(দুদক) চট্টগ্রামের উপ পরিচালক রিয়াজ উদ্দীন জানান,সামশুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে
জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে নিয়মিত মামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের বিরুদ্ধে কিছু প্রক্রিয়া বাকী রয়েছে সেগুলো শেষ করে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে তার নিজের নামে ৫ কোটি টাকার বেশি এবং তার স্ত্রী ও কন্যার নামে আরও প্রায় ১০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।
দুদকের প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, সাবেক হুইপ সামশুলের নামে মোট ৬ কোটি ৮৮ লাখ ৭ হাজার ৯৫৭ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ পাওয়া গেছে। বিপরীতে তার গ্রহণযোগ্য ও বৈধ আয় পাওয়া গেছে ৪ কোটি ৯০ লাখ ১৩ হাজার ৯৫৬ টাকা। পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় বাদ দিয়ে তার প্রকৃত সঞ্চয় হওয়ার কথা ছিল ১ কোটি ৭৯ লাখ ৪৯ হাজার ৩৬২ টাকা। অর্থাৎ, তার আয়ের চেয়ে ৫ কোটি ৮ লাখ ৫৮ হাজার ৫৯৫ টাকার বেশি সম্পদ পাওয়া গেছে, যার কোনো বৈধ উৎস মেলেনি। সামশুল হক চৌধুরী সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে অসৎ উদ্দেশ্যে এই বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন ও ভোগ-দখলে রেখেছেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
তাছাড়া সামশুল হক চৌধুরীর স্ত্রী ও কন্যার নামেও বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের হদিস মিলেছে। দুদকের অনুসন্ধানে স্ত্রী কামরুন নাহার চৌধুরীর নামে ৭ কোটি ২১ লাখ ৫৪ হাজার ৭৮৬ টাকার সম্পদ পাওয়া গেছে। অথচ তার বৈধ আয় ও সঞ্চয় অনুযায়ী সম্পদের পরিমাণ হওয়ার কথা ছিল মাত্র ৪৫ লাখ ৭৮ হাজার ৫৮৩ টাকা। ফলে তার নামে ৬ কোটি ৭৫ লাখ ৭৬ হাজার ২০৩ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য মিলেছে।
অন্যদিকে তার কন্যা তাকলিমা নাছরিন চৌধুরীর নামে ৩ কোটি ১ লাখ ৮১ হাজার ৯৬৯ টাকার সম্পদ পাওয়া গেছে। যেখানে অসংগতিপূর্ণ বা অবৈধ সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ৯৪ লাখ ৮৮ হাজার ৭২৩ টাকা দুদকের কাছে প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন(দুদক) চট্টগ্রামের উপ পরিচালক রিয়াজ উদ্দীন এ তথ্য জানান।