এক বিয়ের ৩ কাবিননামা, কেঁচো খুঁড়তে বেরিয়ে এল সাপ!

 

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম নগরীতে বিয়ের কাবিননামা নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগে দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নারী নির্যাতন আইনে দায়ের হওয়া মামলার বিয়ের তিনটি ভিন্ন ভিন্ন কাবিননামা আদালতে দাখিলের ঘটনা তদন্তে নেমে জালিয়াত চক্রের এই দুই সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া জালিয়াতির মূল কেন্দ্র হিসেবে একটি ‘কাজী অফিস’ শনাক্ত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ মার্চ) রাতে নগরীর হালিশহর এবং সদরঘাটে অভিযান চালিয়ে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো ইউনিটের পুলিশ সুপার নাইমা সুলতানা জানিয়েছেন।

এক বিয়ের ৩ কাবিননামা, কেঁচো খুঁড়তে বেরিয়ে এল সাপ!

গ্রেফতার ‍দু’জন হলেন- মঞ্জুর আলম বাপ্পী (৪৮) ও টিপু দাশ (৩৫)। এদের মধ্যে টিপু নগরীর সদরঘাট থানার সিটি কলেজের পাশে ‘সিটি কম্পিউটার এন্ড ফটোষ্ট্যাট’ নামে একটি দোকানের মালিক।

পিবিআই কর্মকর্তা নাইমা সুলতানা সারাবাংলাকে জানান, গত বছরের সেপ্টেম্বরে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে এক নারীর দায়ের করা মামলায় তিনটি ভিন্ন কাবিননামা দাখিলের বিষয় তদন্তের জন্য আদালত পিবিআইকে নির্দেশ দেন। এর মধ্যে মামলার বাদি একটি কাবিননামা দাখিল করেন, যাতে দেনমোহর উল্লেখ আছে ৮ লাখ টাকা।

এর বিপরীতে মামলার আসামি ওই নারীর স্বামী গত বছরের ১৬ মার্চ কাজী মৌলানা জামাল উদ্দিনের সই করা একটি কাবিননামার সত্যায়িত প্রতিলিপি আদালতে দাখিল করেন, যাতে দেনমোহর এক লাখ এক টাকা উল্লেখ আছে। ৩০ জুন আরেকটি কাবিননামা দাখিল করে তিনি দেনমোহর তিন লাখ টাকা উল্লেখ করেন।

এক বিয়ের ৩ কাবিননামা, কেঁচো খুঁড়তে বেরিয়ে এল সাপ!

এ বিষয়ে তদন্তের দায়িত্ব পাওয়া পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো ইউনিটের পরিদর্শক ইখতিয়ার উদ্দিন সারাবাংলাকে জানান, তদন্তে জালিয়াতির বিষয়ে তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায় এবং মঞ্জুর আলম বাপ্পীকে শনাক্ত করা হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে নগরীর হালিশহরে একটি রেস্তোঁরায় অভিযান চালিয়ে তাকে পাওয়া যায়। তার কাছ থেকে কয়েকটি জাল কাবিননামাও জব্দ করে পিবিআই।

গ্রেফতার বাপ্পী প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পিবিআইকে সদরঘাটের টিপু দাশের দোকান থেকে জাল কাবিননামা সৃজনের বিষয়ে তথ্য দেন। রাতে তাকেও গ্রেফতার করা হয়। তার দোকান থেকে কম্পিউটার এবং ছাপানো কয়েকটি জাল কাবিননামা জব্দ করা হয়েছে।

পিবিআই পরিদর্শক ইখতিয়ার উদ্দিন বলেন, ‘জামাল উদ্দিনের কাজী অফিস থেকে জাল স্বাক্ষরে ভূয়া কাবিননামা সরবরাহ করা হতো। এর সঙ্গে যুক্ত ওই কাজী অফিসের কর্মচারী আজাদ। বাপ্পীর মাধ্যমে জাল কাবিননামার অর্ডার নেয়া হতো। আজাদ জাল স্বাক্ষর, নথিপত্র সরবরাহ করতো। টিপু দাশ তার দোকানের কম্পিউটার ও সিপিইউ ব্যবহার করে জাল কাবিননামা ছাপিয়ে দিত। এটা একটা সংঘবদ্ধ চক্র, যাদের মূল কেন্দ্র বিয়ের কাজী জামাল উদ্দিনের অফিস।’

এক বিয়ের ৩ কাবিননামা, কেঁচো খুঁড়তে বেরিয়ে এল সাপ!

বাপ্পী ও টিপু এবং পলাতক আজাদের বিরুদ্ধে নগরীর হালিশহর থানায় জালিয়াতির মামলা দায়ের করেছেন পিবিআই পরিদর্শক ইখতিয়ার উদ্দিন, যাতে অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।

‘কাজী নিজেই এই জালিয়াতির সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন কি না, সেটা আমরা এখনও জানতে পারিনি। তবে সন্দেহের ঊর্ধ্বে তিনি নন। কারণ উনার অফিস থেকেই বিভিন্ন মামলার আসামিদের দীর্ঘসময় ধরে এসব জাল কাবিননামা সরবরাহ করা হচ্ছে। সেগুলো দাখিল করে আদালতকে বিভ্রান্ত করার পাশাপাশি হয়রানির শিকার হচ্ছে মানুষ।’- বলেন পিবিআই পরিদর্শক ইখতিয়ার উদ্দিন।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.