পটিয়া প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের পটিয়ার সন্তান আলহাজ্ব খলিলুর রহমান ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন । তিনি ব্যাংকটির উদ্যোক্তা পরিচালক।
রবিবার (৫ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ ডিভিশন-২ এর পরিচালক মো: হারুন-অর-রশিদ স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ তথ্য জানা গেছে।
আদেশে বলা হয়েছে, ব্যাংক-কোম্পানী আইন, ১৯৯১ (২০২৩ পর্যন্ত সংশোধিত) এর ৪৭(১) এবং ৪৮(১) ধারার প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ ৫ মে ২০২৪ তারিখের আদেশ নং বিআরপিডি (বিএমএমএ) ৬৫১/৯(২) ডিএ/২০২৪-৩৬৩৯ এর মাধ্যমে অবিলম্বে কার্যকর করে বাতিল করা হয়েছে।
আমানতকারী ও ব্যাংকের স্বার্থ রক্ষার্থে এবং ব্যাংকিং সুশাসন নিশ্চিতকল্পে ও জনস্বার্থে ব্যাংক-কোম্পানী আইন, ১৯৯১ এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়।
এদিকে, ব্যাংকটির পর্ষদের চেয়ারম্যান সহ বেশিরভাগ পরিচালক পদত্যাগ করায় ব্যাংকটি অচল হয়ে পড়ে। ফলে বাধ্য হয়ে রোববার (৫ মে) বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে আলহাজ্ব খলিলুর রহমানকে নিয়োগ দিয়েছে। পাশাপাশি পর্ষদে ৬ জন পরিচালক ও ৩ জনকে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
রোববার নতুন গঠন করা পর্ষদে ১০ সদস্যের মধ্যে আগের তিন পরিচালককে রাখা হয়েছে। তারা হলেন- উদ্যোক্তা পরিচালক আলহাজ্ব খলিলুর রহমান, ব্যাংকটির উদ্যোক্তা শেয়ার হোল্ডার মোয়াজ্জেম হোসেন ও সিকদার ইন্স্যুরেন্সের পক্ষ থেকে মনোনীত পরিচালক সফিকুর রহমান।
নতুন করে পর্ষদে আনা হয়েছে পুঁজি বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক কমিশনার ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন নিজামী, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট রত্না দত্ত ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক জহুরুল হুদাকে।

প্রতিনিধি পরিচালক হিসেবে নতুন করে আনা হয়েছে প্রিমিয়ার ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রিয়াজুল করিম, ব্যবসায়ী এরশাদ মাহমুদ, আইনজীবী এহসানুল করিম ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক একে এম তফাজ্জল হক।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বেসরকারি খাতের ন্যাশনাল ব্যাংকের কর্তৃত্ব নিয়ে সিকদার পরিবারের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। প্রয়াত জয়নুল হক সিকদারের মেয়ে পারভীন হক সিকদার আছেন একদিকে, অন্যদিকে তার দুই ভাই রিক হক সিকদার ও রন হক সিকদার। ভার্চুয়ালি এজিএমে পাতানো ভোটের মাধ্যমে তাকে পর্ষদ থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে এমন শঙ্কায় পারভীন হক সিকদারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ২১ ডিসেম্বর নির্ধারিত বার্ষিক সাধারণ সভার (এজিএম) ওপর স্থিতাবস্থা দেন আদালত। এর আগে একই শঙ্কা জানিয়ে এজিএম বন্ধের উদ্যোগ নিতে শেয়ার বাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির চেয়ারম্যান বরাবর চিঠি দেন তিনি।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই সময় পুঁজি বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সুপারিশে পর্ষদ ভেঙে নতুন পর্ষদ গঠনের আদেশ জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। যেখানে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান ড. সৈয়দ ফরহাত আনোয়ার।
এছাড়া পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম, সাউথইস্ট ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. কামাল হোসেন, খলিলুর রহমান, পারভিন হক সিকদার, শফিকুর রহমান ও মোয়াজ্জেম হোসেন। কিন্তু সাড়ে চার মাস যেতে না যেতেই স্বয়ং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অযাচিত হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে পদত্যাগ করল ব্যাংকটির পরিচালকরা।
উল্লেখ্য, ন্যাশনাল ব্যাংকের নবগঠিত পর্ষদের পরিচালক ও চেয়ারম্যান এবং কেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব খলিলুর রহমান ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি আর্থ সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য, সামাজিক, সাংস্কৃতিকসহ একনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।