পটিয়ার আজন্ম বিপ্লবী সামশুদ্দিন আহমদের প্রস্থান 

 

আ ন ম সেলিম,পটিয়া (চট্টগ্রাম) :

সামশুদ্দিন আহমদ সর্বজন শ্রদ্ধেয় একজন বীরমুক্তিযোদ্ধা,বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ,ষাটের দশকের ছাত্রনেতা। নেতাদের নেতা তথা নেতা বানানোর কারিগরও বলে হয় তাকে। ছিলেন ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে যুদ্ধকালীন কম্যান্ডার। সেসময় নিজের গ্রুপ শক্তিশালী করে পাকিস্তান হানাদার বাহিনী, রাজাকার,আল বদর,আল শামস এবং দালালদের বিরুদ্ধে অসংখ্য সফল অভিযান পরিচালনা করেন তিনি। তিনি পাকিস্তান আমল ও ৭৫ পরবর্তীকালে কয়েক দফা কারানির্যাতন সহ্য করেন।

 

প্রফেসর সামশুল ইসলামের অধীনে ভারত থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহন করে

দেশে এসে সদস্য সংগ্রহ করে একটি শক্তিশালী গ্রুপ গঠন করে অপারেশন কার্যক্রম শুরু করেন সামশুদ্দিন আহমদ। বরকলের শাহজাহান ইসলামাবাদী সহ বিভিন্ন জন থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করে তার গ্রুপকে আরো শক্তিশালী করেন।

শামসুদ্দিন আহমদ পটিয়ায় ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম একজন ছিলেন।

পটিয়া কলেজ প্রতিষ্ঠিত হলে কলেজকে ঘিরে ছাত্র রাজনীতি শুরু হয়। সেই সময় পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে ছিল। বিপরীতে সৈয়দ আহমদ বি কম, মোঃ আলী, আফজল আহমদ, আহমদ নুর, শোভনদন্ডীর এম এ জাফর, গাছবাড়িয়ার আবদুল গফুর, আবু ছিদ্দিক চৌধুরী সহ অসংখ্য ছাত্র সামশুদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে ছাত্রলীগকে সংগঠিত করে।

১৯৬৯ সালে সম্মেলনে চৌধুরী সিরাজুল ইসলামকে সভাপতি এবং শামসুদ্দিন আহমদকে সাধারণ সম্পাদক করে বৃহত্তর পটিয়া (পটিয়া, চন্দনাইশ, কর্নফুলি সহ) থানা ছাত্রলীগের কমিটি গঠিত হয়। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের কারনে স্বাধীনতার পর শামসুদ্দিন আহমদের প্রভাব বেড়ে যায়। তিনি দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি, পরে পটিয়া থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি সহ বিভিন্ন পদে আসীন হন। তিনি জিয়াউর রহমান,হোসাইন মো: এরশাদ, বেগম খালেদা জিয়ার আমল তথা আওয়ামী লীগের দুর্দিনে দলের হাল ধরেন।

মুক্তিযুদ্ধ ও দলীয় রাজনীতিতে তার যে ভূমিকা তা কখনো সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। বিশেষ করে পটিয়ার সাবেক এমপি ও হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর গত ১৫ বছর সময়ে তাকে নানাভাবে অপমান অপদস্থ করা হয়েছে । তিনি নিতান্তই অবহেলা, বঞ্চনার শিকার হয়ে জীবনের শেষের দিনগুলো কাটিয়েছেন সবার অগোচরে।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাতে জীবনের শেষ নি:শ্বাস ত্যাগের মাধ্যমে পটিয়ার এক আজন্ম বিপ্লবীর প্রস্থান ঘটে। তার মৃত্যুতে পটিয়ায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

 

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.