বাচ্চু পাটোয়ারী কমল,মিরসরাই(চট্টগ্রাম)প্রতিনিধিঃ
চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় আদালতের স্পষ্ট রায় উপেক্ষা করে সরকারি প্রকল্পের কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় চরম ভোগান্তি ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন আদালতে বিজয়ী এক নারী ভূমি মালিক।
আজ সকাল ১১টায় মিরসরাই রুপটপ রেস্টুরেন্টে এ বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী শাহেদা বেগমের পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ হোসেন লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
ভুক্তভোগী নারী মোসাম্মদ শাহেদা বেগম (স্বামী: নুরুল ইসলাম) মিরসরাই পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম মিরসরাই এলাকার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘ ১৩ বছর আইনি লড়াই শেষে তার মালিকানাধীন জমির পক্ষে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল, চট্টগ্রাম থেকে রায় লাভ করেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, মিরসরাই উপজেলার সামনে অবস্থিত
আর এস ৩৩১৯ খতিয়ানের আর এস ১৫৫৪৮ দাগের ৬৩ শতক জমির মধ্যে ২০ শতক এবং
আর এস ৫৮০৯ খতিয়ানের আর এস ১৫৫৪৬ দাগের ৯১ শতক জমির মধ্যে ৩০ শতক
হেবানামা সূত্রে শাহেদা বেগমের মালিকানাধীন।
উক্ত সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধে তিনি ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল আদালতে এলএসটি মামলা নং–১২৮৩/২০২৪ দায়ের করেন। গত ২৭ মে ২০২৫ তারিখে বিজ্ঞ আদালত আদেশ নং–২০ এর মাধ্যমে বাদীর পক্ষে রায় প্রদান করেন।
রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, উক্ত সম্পত্তি সংক্রান্ত বিএস ৮ নম্বর খতিয়ান সরকার (বিবাদী) পক্ষের নামে লিপিবদ্ধ হওয়া ভুল ও ভিত্তিহীন।
একই সঙ্গে আদালত ওই ভুল লিপি বাতিল করে বাদীর অনুকূলে খতিয়ান সংশোধনের নির্দেশ প্রদান করেন। আদালতের রায়ের অনুলিপি সংশ্লিষ্ট সহকারী কমিশনার (ভূমি), তহসিলদার ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করা হয়।
তবে অভিযোগ রয়েছে, আদালতের রায় কার্যকর না করে এখনো ওই জমিতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর প্রকল্পের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে শাহেদা বেগম বলেন,
“দীর্ঘ ১৩ বছর মামলা পরিচালনার পর আদালত থেকে ন্যায়বিচার পেয়েছি। কিন্তু রায় পাওয়ার পরও যদি তা মানা না হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের আইনের ওপর আস্থা কোথায় থাকবে?”
তিনি আরও বলেন,
“আমি আদালতের রায় হাতে নিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
শেষ ভরসা হিসেবে গণমাধ্যমের দ্বারস্থ হয়েছি।”
এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, এ প্রসঙ্গে মিরসরাই উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আলাউদ্দিন কাদের সাংবাদিকদের জানান,
“বিএস খতিয়ান সংক্রান্ত বিষয়ে মামলা হয়েছে এবং আদালতের রায় বাদীর পক্ষে এসেছে।
তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে আমরা পুনরায় আপিল করেছি। স্থাপনা নির্মাণের কাজ বর্তমানে চলমান আছে কিনা সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত নই।”
আইন ও মানবাধিকার সংশ্লিষ্টদের মতে, আদালতের রায় অমান্য করে সরকারি কার্যক্রম পরিচালনা করা আইনের শাসনের পরিপন্থী।
তারা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও রায় বাস্তবায়নের দাবি জানান।