টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুমের দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বর্তমান ও সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলায় প্রসিকিউশনের সাক্ষী মীর আহমাদ বিন কাসেমে (আরমান) জেরা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জেরায় ব্যারিস্টার আরমানকে আইনজীবী বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা আপনাকে গুম করেনি, আপনি আত্মগোপনে ছিলেন। এ ছাড়া আপনার লেখা ‘আয়নাঘরের সাক্ষী, গুমজীবনের আট বছর’ বইয়ে বর্ণিত সব বিবরণী মিথ্যা বলেছেন। জবাবে এসব সত্য নয় বলে জানান আরমান।
রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আমিনুল গনি টিটো। মঙ্গলবার পরবর্তী জেরার দিন ধার্য করা হয়েছে।
জেরায় আরমান বলেন, আমার ঘাড়ের গামছা, পরনের লুঙ্গি ও টি-শার্টটি চেয়েছিলেন তদন্ত কর্মকর্তা। কিন্তু সংরক্ষণ না করায় দিতে পারিনি। ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব ধ্বংস করেছি’, এটা সত্য নয় বলেন তিনি।
গত ২১ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন ব্যারিস্টার আরমান। সেদিন নিজের গুমজীবনের আদ্যোপান্ত ও বিস্তারিত তথ্য তিনি আদালতে তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০১৬ সালের ৯ আগস্ট রাতে তাকে বাসা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিচয়ে অপহরণ করা হয়।
টিএফআই সেলে গুমের দায়ে গত বছরের ২২ ডিসেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পাঁচটি অভিযোগ গঠন করা হয়। সেদিন অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু হয়।
টিএফআই সেলে গুমের ঘটনায় ১৭ আসামির মধ্যে ১০ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন, তারা সেনা কর্মকর্তা। এই তালিকায় আছেন কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, কর্নেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, কর্নেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, কর্নেল কে এম আজাদ, কর্নেল মো. কামরুল হাসান, কর্নেল মো. মাহাবুব আলম, কর্নেল মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আল মোমেন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারোয়ার বিন কাশেম, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান জুয়েল ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন।
এ মামলার পলাতক সাত আসামি হলেন পতিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি এম খুরশিদ হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার মো. হারুন অর-রশিদ এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. খায়রুল ইসলাম।