ম্যানগ্রোভ বন কাটায় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে মামলা, বন বাঁচাতে বুক চিতিয়ে ঘোরকঘাটা রেঞ্জ

আগে ৫০ একর বনভূমি উদ্ধার করে ব্যাপক আলোচনায় এসেছিলেন-

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

মহেশখালী উপজেলার সোনাদিয়া ও ঘটিভাঙ্গা মৌজায় জীবন্ত প্যারাবন (ম্যানগ্রোভ বন) কেটে অবৈলভাবে চিংড়ি ঘের তৈরির ঘটনায় অবশেষে ৩০ জনের নামে মামলা দায়ের করেছে বন বিভাগ।

মহেশখালীর ঘোরকঘাটা রেঞ্জের ঘটিভাঙ্গা বিটের বিট কর্মকর্তা বিভাষ কুমার মালাকার বাদী হয়ে গত ২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে মহেশখালী থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলা নং- ০৫।

আসামিদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিরা।
আসামিরা হলেন -কুতুবজোম ইউপি চেয়ারম্যান এডভোকেট শেখ কামাল,ঘটিভাঙ্গা মেম্বার মোঃ ছিদ্দিক রিমন,বড় মহেশখালী সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ার পাশা চৌধুরীর সন্তান মহসিন আনোয়ার চৌধুরী ও মোস্তফা আনোয়ার চৌধুরী,ডাঃ আমিন শরীফের পুত্র মোঃ শমসের,সাবেক যুবলীগ নেতা সাজেদুল করিম,গোরকঘাটা সিকদার পাড়ার অধ্যক্ষ ছৈয়দুল হক সিকদার, মহেশখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র মকসুদ মিয়ার ভাই কাইছার সিকদার
ঘটিভাঙ্গা সাবেক মেম্বার নুরুল আমিন খোকা
সোনাদিয়ার বর্তমান মেম্বার একরামুল হক
আওয়ামী লীগ নেতা ডাঃ আনজু মিয়া
সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীনের ভাই মোঃ শাহেদ, কুতুবজোম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রবি আলম।

এছাড়া কালু মিয়া, মুবিনুল ইসলাম, মারুফুল ইসলাম, ওসমান আলী, জসিম উদ্দিন, মোহাম্মদ আমিন, ইমতিয়াজ উদ্দিন নকিব, নজরুল ইসলাম, সাজ্জাদ, নাজিম উদ্দিন, জয়নাল আবেদীন, শামশুল আলম, আবদুর রহিম, আব্বাস মিয়া, আজিজুল হক, নুরুল আজিম, মোহাম্মদ রফিকসহ আরও অনেকে। মামলায় অজ্ঞাতনামা ১৫-২০ জনকেও আসামি করা হয়েছে।

জানা যায় – ঈদুল ফিতরের পর প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় ও পৃষ্ঠপোষকতায় আসামিরা সোনাদিয়া ও ঘটিভাঙ্গা মৌজার ৫ হাজার একরেরও বেশি জীবন্ত প্যারাবন কেটে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে, স্কেভেটার দিয়ে মাটি কেটে চিংড়ি ঘের ও লবণ মাঠ তৈরি করেন। এতে উপকূলীয় এলাকার প্রাকৃতিক সবুজ বেষ্টনী ধ্বংস হয়েছে, যা স্থানীয় মানুষের জীবন ও জীবিকাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
এর আগেও তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে। তবে কিছুদিন পরেই তারা ফের সংঘবদ্ধ হয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে সস্তায় শ্রমিক এনে প্যারাবন নিধন চালিয়ে যাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
মহেশখালী উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে আসামিদের অর্থায়নে তৈরি চিংড়ি ঘের, খামারবাড়ি ও স্কেভেটার জব্দ করে আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে।
পরিবেশগত উদ্বেগ প্যারাবন উপকূলীয় এলাকার ঝড়-জলোচ্ছ্বাস থেকে মানুষকে রক্ষা করে।

এদিকে ঘোরকঘাটা রেঞ্জ কর্মকর্তা আয়ুব আলী বলেন,একটি মহল প্যারাবন কাটার সাথে সক্রিয়।
আমরা ওই প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছি।

তিনি আরো বলেন ঘটি ভাংগার বিট কর্মকর্তা বিভাষ কুমার মালাকার বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে   ঘোরকঘাটার রেঞ্জ কর্মকর্তা আয়ুব আলী মহেশখালীতে যোগদান করার পর একটি শক্তিধর মহল থেকে একসাথে ৫০একর বনভূমি উদ্ধার করে সারা বাংলাদেশ জুড়ে প্রশংসায় ভাসছিলো।
পরবর্তীতে এর ধারাবাহিকতায় তার কাজের প্রতি স্থানীয়রাসহ বনবিভাগও সন্তুষ্ট বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছেন।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.