বাঁশখালীতে মুক্তিযোদ্ধার ৪০ বছরের পুরাতন মার্কেট গভীর রাতে দখলের অভিযোগ

 

বাঁশখালী চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ

 

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে রাতের আঁধারে ৪০ বছরের পুরানো ২ তলা বিশিষ্ট ভবনের ৮ টি দোকান, একটি বোডিং ও একটি অফিস কক্ষ দখল এবং সাড়ে ৬ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জনের বিরুদ্ধে বাঁশখালী থানায় এজাহার দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মিজানুর রহমান ওরফে কাজল নামে এক ব্যক্তি থানায় এজাহারটি দেন। তিনি নিজেকে ওই সম্পত্তির মালিক বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক চেয়ারম্যান সুলতানুল গণি চৌধুরীর কেয়ারটেকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

মামলা এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাঁশখালী প্রাক্তন সংসদ সদস্য মরহুম এড. সুলতানুল কবির চৌধুরী ছোট ভাই, পুঁইছুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা সুলতানুল গণি চৌধুরীর ৮ শতক বা ৪ গন্ডা জায়গা খরিদ করে ১৯৮৯ সালে ২য় তলা বিশিষ্ট মার্কেট নির্মাণ করে ভাড়া দিয়ে আসছেন। হঠাৎ শুক্রবার গভীর রাতে বাহিরা গত সন্ত্রাসী দিয়ে মার্কেটের সামনে অংশে পাকা পিলার ও টিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে দখল নিয়ে মরহুম বশির আহমদ গং ওয়ারিশদের নামে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হয়।

 

 

বাদীর অভিযোগ, ২য় তলায় থাকা বোডিংয়ের ক্যাশ বাক্স থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং অফিস কক্ষ থেকে ফিশারির মাছ বিক্রির ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অফিস থেকে গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বোডিংয়ে থাকা লোকজনকে মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে বের করে দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। উক্ত আসামিরা সম্পত্তির মালিকের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। টাকা না দেওয়ায় বাদী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হত্যাসহ গুরুতর জখমের হুমকি দেওয়া হয়। দোকানগুলোতে থাকা প্রায় ৫০ লাখ টাকার মালামালও আসামিদের হেফাজতে রয়েছে বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।

তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত গিয়াস উদ্দিন বলেন, সোলতানুল গণি চৌধুরী যে ওয়ারিশ থেকে জায়গা নিয়েছে তার পূর্বে ১৯৮০ সালে কবলামূলে আমার বাবা মরহুম বশির আহমদ ক্রয় করেছিল। তারা আমাদের স্থাপনা এতোদিন জোরপূর্বক দখল করেছিল। স্থানীয় বাজার কমিটি ও থানায় আপোস মিমাংসার জন্য বললে তারা বসেননি।

পুঁইছড়ি ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. সাদ্দাম হোসেন মানিক বলেন, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে শতাধিক নারী-পুরুষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রেম বাজারে বীরমুক্তিযোদ্ধা সুলতানুল গণি চৌধুরী লেদু মিয়ার ১৯৮৯ সালে নির্মিত মার্কেট ও লিজা বোডিং দখলের চেষ্টা করছে–এমন খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। পরে পুলিশের সহায়তা চেয়ে ৯৯৯-এ কল করেন। সাড়া না পেয়ে বাঁশখালী থানার ওসিকে জানালে এসআই কামরুলের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে দখলকারীরা পুলিশের কথাও মানেনি বলে দাবি করেন তিনি।

সাদ্দাম হোসেন আরও বলেন, এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা প্রশাসনকে জানানোয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, সম্পত্তি দখলের পক্ষে দখলকারীদের কোনো আদালতের রায় বা প্রশাসনিক অনুমতি নেই।

এ বিষয়ে বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রবিউল হক বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে দু’গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করলে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। বিষয়টি আমার উধ্বর্তন কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারকেও অবগত করেছি। উভয় পক্ষকে থানায় আসার জন্যও বলা হয়েছে। অভিযোগটি তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.