গাছ কাটছে আমি যেমন জানি ডিএফও এবং রেঞ্জাররাও জানেন, ওখানে আমি একা গেলে মার খাব- ইয়াংছা ক্যাম্প কর্মকর্তা
গাছ কাটা ও পাচারের সময় মুঠোফোন বন্ধ থাকে লামা বনবিভাগের ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমানের-
সৈয়দ আককাস উদদীন -চট্টগ্রাম থেকে
চট্টগ্রাম বন অঞ্চলের আওতাধীন বান্দরবান লামা বনবিভাগের লামা সদর রেঞ্জের বিভিন্ন বিটে চলছে বনাঞ্চল নিধন প্রতিযোগিতা। লোক দেখানো কয়েকটা অভিযান চালালেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে ভুরি ভুরি।
এদিকে সরেজমিনে গেলে লামা বনবিভাগের সদর রেঞ্জের আওতাধীন ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের ইয়াংছার কাঠালছড়া এলাকার নদীর পাড়ে সেগুন ও গামার কাঠের বিশাল বিশাল স্তুপ দেখা যায়।
জানা যায়, লামা সদর রেঞ্জের ইয়াংছা ক্যাম্পের কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানের যোগসাজশে এই কাঠগুলো রিজার্ভ থেকে কেটে পাচারের উদ্দেশ্যে নদীর পাড়ে রাখা হয়েছে।
স্তুপ করা কাঠের একজন নুরুল আলম বলেন- রেঞ্জ অফিস এবং লামা বনবিভাগের ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমান ও ইয়াংছা ক্যাম্পের কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে কাগজপত্র করেই এসব বনে কেটে স্তুপ করা হয়েছে।
তবে তিনি প্রতিবেদককে বৈধ কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।
অপরদিকে ওই গাছ গুলো যে অবৈধ সেটাই দৈনিক সকালের সময়কে অকপটে স্বীকার করে বলেন,ভাই আমি ইয়াংছা বিটের শুধু ক্যাম্প কর্মকর্তা, আপনি রেঞ্জারকে কল করেন- দরকার হলে আমার থেকে নম্বর নেন ওনি সব জানেন।
আর এখানে প্রতিটা গাছের পাতা নড়ে ডিএফও’র ইশারায়।
এদিকে ইয়াংছা ক্যাম্প কর্মকর্তা মোস্তাফিজ বলেন-হ্যাঁ আমিও জানি গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে সেটা ডিএফওসহ সবাই জানেন। সুতরাং আমি একা জেনে বা ওখানে গিয়ে কি করতাম?আমি একা গিয়ে কি মার খাইতাম বুড়া বয়সে?
গাছ কাটলে কাটুক বেইজ্জতি হতে পারবনা চাকুরী আছে মাত্র এক বছর আমার বয়স হয়েছে আমি ঝামেলায় যেতে পারবনা।
এই বিষয়ে লামা বনবিভাগের সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা পারভেজ রনিকে ইয়াংছার বিট কর্মকর্তা মোস্তাফিজুরের কথা মতো কল করা হলে তিনি বলেন, ভাই আমি শুনছি ওদিকে যাচ্ছি বিষয়টা দেখতেছি ব্যবস্থা নিচ্ছি।
গাছ কাটার বিষয়ে ও স্তুপ রাখার বিষয়ে ইয়াংছা ক্যাম্প কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানের কথা মতো
লামা বনবিভাগের ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমানকে কল করা হলে- তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়,ফলে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। প্রতিবেদকের পরিচয় দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ করা হলেও তার কোন সাড়া শব্দ পাওয়া যায়নি।
এদিকে লামায় কর্মরত স্থানীয় একাধিক গণমাধ্যমকর্মী সকালের সময়কে জানিয়েছেন, অবৈধ ভাবে রিজার্ভ কাটা কিংবা গাছ পাচারের সময় কোন কিছু দৃশ্যমান হলে ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমান তখন ফোন অফ করে দেয়। যাতে কেউ ডিএফওকে প্রশ্ন করতে না পারেন।
লামা বনবিভাগের একাধিক কর্মকর্তা সকালের সময়কে বলেন,একটা ডিভিশনে অন্তত কর্মকর্তা কর্মচারী মিলে মোট ৩টা গ্রুপ সৃষ্টি হয়।তিনটা গ্রুপের নজরে থাকে লামা সদর রেঞ্জের লোভনীয় পোষ্টিং ও লামামুখ স্টেশন ও ইয়াংছা ক্যাম্প ও তৈণ রেঞ্জ ।এই পদগুলিতেও ব্যাপক অনিয়মের খবর বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে ওঠে এসেছে।আরো ওঠে এসেছে, লামা বনবিভাগের অসাধু কিছু কর্মকর্তাদের নিজস্ব বলয়ে স্থানীয় গুটিয়েক ভুঁইফোড় সাংবাদিকরাও জড়িত বলে দৈনিক সকালের সময় নিশ্চিত হয়েছেন।
চলমান পর্ব-০১