কোটি টাকার চেক প্রতারণার মামলার প্রতারককে গ্রেপ্তার করলেন র‌্যাব

আনোয়ারা প্রতিনিধি:

আনোয়ারা উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের তেকোটা গ্রামের মো. মোসাদ্দেক চৌধুরী (বাংলাদেশ সরকারের সিআইপি) ১ কোটি ২ লাখ টাকার চেক প্রতারণার মামলার অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া (৫৯) নামে এক প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-২। গত মঙ্গলবার রাজধানীর আদাবর থানার শেখের টেক পিসি কালচার হাউজিং এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তারের পর বুধবার (০৩ ফেব্রুয়ারী) আনোয়ারায় থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। বুধবার তাকে আদালতে প্রেরণ করেছে বলে জানিয়েছে থানা পুলিশ।

আনোয়ারা থানা ও র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত মো. শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া (৫৯) একজন ওমান প্রবাসী। সেখানে থাকা অবস্থায় আরেক প্রবাসী আনোয়ারা উপজেলার বাসিন্দা মোসাদ্দেক চৌধুরী নামে এক ব্যক্তির নিকট বিভিন্ন সময় ধারের কথা বলে ১ কোটি ২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। পরবর্তীতে মোসাদ্দেক চৌধুরী টাকা চাইতে গেলে সে বিভিন্ন প্রকার হুমকি ধুমকি দেয়। এতে মোসাদ্দেক চৌধুরীর সন্দেহ হলে তিনি গত ৩০ জানুয়ারী আদালতে একটি চেক প্রতারণা মামলা দায়ের করেন। সূত্রে আরো জানা যায়, শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বিভিন্ন সময় প্রবাসীদের চাকরী ও ভিসা দেওয়া কথা বলে প্রবাসীদের নিকট থেকে প্রতারণা করে টাকা নিয়ে বিশাল সম্পদের মালিক হয়ে যায়। ২০১৪ সালেও প্রবাসীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে একটি মামলায় মো. শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে আদালত গ্রেপ্তারী পরোয়ানার জারি করলে সে ঐ মামলা পলাতক আসামী সে।

মামলার বাদী মোসাদ্দেক চৌধুরী (বাংলাদেশ সরকারের সিআইপি) জানান, শফিকুল ইসলাম ভূইয়ার সঙ্গে ২০১৫ সালে আমার পরিচয় হয়। সেই সুবাদে মাঝে মধ্যে অল্প কিছু টাকা ধার নিলেও নিদিষ্ট সময়ে দিতে না পারলেও পরবর্তী সময়ে দিয়ে দিতো। ২০১৭ সালের ১৬ নভেম্বর অনেক ছলনার আশ্রয় নিয়ে আমার কাছ থেকে ৪৪ হাজার ৫শত রিয়েল নগদ ধার নেয় যা বাংলাদেশী টাকায় ১ কোটি ২ লক্ষ টাকা এবং আমাকে ব্যাংক ম্যাস্কাটের একটি ক্যাশ চেক প্রদান করে। আমি চেকটি ব্যাংকে জমা করলে ঐ চেক ডিজঅনার হয়। পরবর্তীতে আমি পাওনা টাকা না পেয়ে ওমানের আদালতে চেক ডিজঅনারের মামলা করি এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের কাছে ২০১৯ সালের ৭ এপ্রিল শফিকুল ইসলাম ভূইয়ার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করি। পরে ওমানের আদালত শফিকুল ইসলামকে এক মাসের কারাদ- প্রদান করে। পরবর্তীতে টাকা পরিশোধ করার শর্তে জামিন নিয়ে সে বের হয়ে স্থানীয় রেসিডেন্স কার্ড নবায়নের কথা বলে তার জব্দকৃত পাসপোর্ট নিজের কাছে নিয়ে ২০১৯ সালের ১৪ জুলাই বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। দেশে আসার পর সে আমাকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ব্যক্তিদের দিয়ে এবং নিজে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে আসছে। আমি চট্টগ্রাম কোর্টে ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারী জি আর মামলা করলে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি করে। তিনি আরো জানান, আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের বিভিন্ন মহলে আমার টাকা উদ্ধারের আবেদন করছি। শফিকুল ইসলাম প্রবাসী ইয়াসিন চৌধুরী সিআইপি, নাজিম উদ্দীন, আনোয়ার চৌধুরী, মাহবুবসহ আরও অনেকের কাছ থেকে টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

আনোয়ারা থানার অফিসার ইনচার্জ এস.এম দিদারুল ইসলাম সিকদার জানান, র‌্যাব-২ এর অভিযানে প্রবাসীদের টাকা আত্মসাৎ ও চেক প্রতারনা মামলার আসামী শফিকুল ইসলাম ভূইয়াকে রাজধানীর আদাবর থানার শেখের টেক পিসি কালচার হাউজিং এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে আনোয়ারা থানায় হস্তান্তর করে। বুধবার তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.