হেলাল আকবর বাবরের মানবিক রাজনৈতিক উত্থানের গল্প

সৈয়দ আককাস উদদীন»

হেলাল আকবর বাবর। চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গলে আলোচিত মুখ। ৯০ দশকের ছাত্র নেতা বাবর ছাত্রলীগের নেতৃত্ব তৈরীর আতুরঘর এমইএস বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস ও নগর ছাত্রলীগের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য। কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক উপ অর্থ সম্পাদক বাবরের চট্টগ্রাম জুড়েই রয়েছে রাজনৈতিক বলয়। যুবলীগের নানক-আজম কমিটির কার্য-নির্বাহী সদস্যও ছিলেন তিনি।

মুলত চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের প্রয়াত সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর আস্থাভাজন হিসেবে বাবরের রাজনৈতিক জীবন শুরু। এখনো তিনি সেই বলয়েরই রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত। আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে চট্টগ্রাম নগরে বিএনপি-জামায়াতের ক্যাডারদের আতংক ছিলেন এই বাবর।

দেশে ছাত্র শিবিরের অন্যতম বৃহত্তম ঘাঁটি চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসিন কলেজ শিবির মুক্ত করতে রাজনৈতিক ‘ম্যাকানিজম’ ছিল হেলাল আকবর বাবরের। বাবরের কৌশলে মার খেয়ে চট্টগ্রাম কলেজের ঘাঁটিতে পরাজিত হতে হয়েছে ছাত্র শিবিরকে। বাবরের অনুসারীরাই শিবিরকে রাজনৈতিকভাবে উৎখাত করে চট্টগ্রাম কলেজে উড়িয়েছে এখন শিক্ষা, শান্তি, প্রগতির ধারক-বাহক বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পতাকা।

নগর ছাত্রলীগের রাজনীতিতে হেলাল আকবর বাবরের ‘প্রধান সেনাপতি’ হিসেবে পরিচিত মাহমুদুল করিমই ছিল
চট্টগ্রাম কলেজে ছাত্রলীগের রাজনীতি প্রতিষ্ঠার প্রধান হাতিয়ার। পরবর্তীতে মাহমুদুল করিমকেই চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মনোনীত করা হয়।

সম্প্রতি করোনার কারণে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড তেমন সচল না থাকায় বাবরের মনযোগ অসহায়ের মানুষের দিকে। লক্ষাধিক অসহায়ের মানুষের পাশে বাবর দাঁড়িয়েছেন ইতোমধ্যে মানবিক সাহায্য নিয়ে। গোটা রমজান জুড়ে প্রতিদিন একটি করে গরু কিংবা মহিষ জবাই করে হাজার হাজার মানুষের ইফতার ও সেহেরি বিতরণ কার্যক্রম ছিল চট্টগ্রামজুড়ে আলোচিত বিষয়।

এছাড়া সারাদেশে আলোচিত করোনা প্রতিরোধক বুথের উদ্ভাবকও হেলাল আকবর বাবর। পথের দ্বারে স্থাপনযোগ্য যে বুথ থেকে অত্যন্ত সহজ প্রক্রিয়ায় মাস্ক ও হ্যান্ড সেনিটাইজার নিতে পারছে সাধারণ মানুষ। বাবরের উদ্ভাবিত এই বুথ দেশের ৬৪ জেলায় এখন ছড়িয়ে পড়েছে। বাবরের উদ্যোগ চট্টগ্রাম নগরী ও জেলায় ইতোমধ্যে স্থাপন করা হয়েছে প্রায় এক হাজার করোনা প্রতিরোধক বুথ। আওয়ামী লীগ৷ল, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের পক্ষ থেকে দেশজুড়ে বাবরের উদ্ভাবিত বুথটি স্থাপন করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে নিজ নির্বাচনী এলাকায় এ বুথ চালু করেছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমদ পলক। এবিএম মহিউদ্দীন চৌধুরী ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে হেলাল আকবর বাবর ১০টি বুথ উপহার দিয়েছেন নড়াইলের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মতুর্জাকে।

তাছাড়া, চট্টগ্রাম সিটি মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, রাজশাহীর সিটি মেয়র এ.এইচ.এম কামরুজ্জামান লিটনসহ আরও অনেকে নিজ এলাকায় বসিয়েছেন এই বুথ।

চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুল করিম হেলাল আকবর বাবর প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম সংবাদকে বলেন, ‘বাবর ভাই তারুণ্যের রাজনৈতিক আইকন। সময়ে প্রয়োজনে উনি সাহসী যোদ্ধা, সময়ে প্রয়োজনে তিনি মানবিক নেতা। কখনো দক্ষ সংগঠকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন তিনি। কখনো জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে গর্জন দেন। চট্টগ্রাম নগরজুড়ে বাবর ভাইয়ের হাতে তৈরী হয়েছে হাজারো যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। যারা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী রাখতে ভূমিকা রাখছে।’

মাহমুদুল করিম আরও বলেন, ‘দেশে শিবিরের অন্যতম প্রধান ঘাঁটি চট্টগ্রাম কলেজে ২০১০ সাল থেকে আমি ছাত্রলীগকে সংঘটিত করার কাজে হাত দিই। তখন আমাকে শিবিরের বিরুদ্ধে ম্যাকানিজম সেট করা থেকে শুরু রাজনৈতিক সকল সহযোগী দিয়েছেন বাবর ভাই। মুলত তার একক দিকনির্দেশনাতেই চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসিন কলেজে ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠিত হয় একচ্ছত্রভাবে।’

হেলাল আকবর বাবরকে চট্টগ্রামের মানবিক নেতা হিসেবে আখ্যা দিয়ে মাহমুদুল করিম বলেন, ‘করোনাকালীন গরীব থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাবর ভাই। লক্ষাধিক মানুষ পেয়েছে বাবর ভাইয়ের সাহায্য। রমজানজুড়ে প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ হাজার মানুষের জন্য গরু অথবা মহিষ জবাই দিয়ে রান্না করা সেহেরি ও ইফতার দিয়েছেন তিনি। তার উদ্ভাবিত করোনা প্রতিরোধক বুথ দেশজুড়ে আজ করোনায় মানুষকে সুরক্ষা দিতে ভূমিকা রাখছে। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা এবং সরকারের মন্ত্রী-এমপি পর্যায়েও যেমন তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আহমেদ পলক ভাই, এমপি মাশরাফী বিন মর্তুজা, সাতকানিয়া-লোহাহাড়ার এমপি প্রফেসর. ড. আবু রেজা নদভী, চকরিয়ার এমপি জাফর আহমদ, চন্দনাইশের এমপি নজরুল ইসলামসহ অনেকে এই করোনা প্রতিরোধক বুথকে সাদরে গ্রহন করে নিজ নিজ এলাকায় স্থাপন করেছেন। শুধু তাই নয়, চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বিও করোনা প্রতিরোধে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারকে সহজলভ্য করতে এ উদ্যোগকে অত্যন্ত কার্যকরী পদক্ষেপব হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।’

মাহমুদুল করিম বলেন, ‘জাতীয় সংসদের প্রায় ১৮০ জন এমপি’র কাছে এই বুথ পাঠানো হয়েছে। সিএমপি’র আটটি থানায় এটি স্থাপন করা হয়েছে।’

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.