অগ্রিম ৩০ হাজার টাকা নিয়েও মাহফিলে এলেন না হাসিবুর!

বয়কটের আহ্বান জানিয়ে শাস্তি দাবি করেছেন এলাকাবাসী

লক্ষ্মীপুরে অগ্রিম টাকা নিয়েও বক্তা ওয়াজ মাহফিলে আসেননি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইসলামি বক্তা এম. হাসিবুর রহমানের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অগ্রিম দেওয়া টাকা ফেরত ও বক্তাকে বয়কটের আহ্বান জানিয়ে শাস্তি দাবি করেছেন এলাকাবাসী।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১১ নভেম্বর) লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ-রায়পুর উপজেলার সীমান্তবর্তী মাসিমপুর এলাকায় দিঘীর পাড় জামে মসজিদের উদ্যোগে বার্ষিক ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। মাহফিলে প্রধান তাফসীরকারক হিসেবে আলোচনা করার কথা ছিল ইসলামি বক্তা এম. হাসিবুর রহমানের। আসার কথা বলে অগ্রিম ৩০ হাজার টাকা নিয়েও আসেননি তিনি।

এদিন রাতেই অগ্রিম দেওয়া টাকা ফেরত চেয়ে ও এম. হাসিবুর রহমানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে বিক্ষোভ করেছেন মুসল্লীরা।

এ বিষয়ে মাহফিল কমিটির সভাপতি নূরে আলম মানিক বলেন, ‘আমি নিজেসহ সবাই মিলে মাওলানা এম.হাসিবুর রহমান সঙ্গে কয়েক দফায় যোগাযোগ করি। ওয়াজ করার জন্য তার সঙ্গে ৫০ হাজার টাকায় চুক্তি হয়। এরমধ্যে মাহফিলে আসার জন্য মাওলানার (এম. হাসিবুর রহমান) একাউন্ট নাম্বারে (ইসলামী ব্যাংক- ২০৫০৩০৪০১০১০৫০২)  ১০ নভেম্বর ৩০ হাজার টাকা অগ্রিম জমা দিয়েছি। বাকী টাকা মাহফিলে আসার পর দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিনি মাহফিলে আসেননি। আমরা খবর পেয়েছি তিনি বেশি অঙ্কের টাকা পেয়ে অন্য কোন মাহফিল গিয়েছেন। আমরা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

ওয়াজের যুব কমিটির সদস্য ফয়েজ বলেন, আমরা এলাকার যুবসমাজ ১৫/২০ দিন থেকে অক্লান্ত পরিশ্রম করে মাহফিলটি আয়োজন করি। আমরা অনেক আনন্দিত ছিলাম, আমাদের সবার বাসায় মেহমান ছিল। কিন্তু চুক্তির ৫০ হাজার টাকার মধ্যে ৩০ হাজার টাকা নিয়েও মাহফিলে না এসে আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। আমরা টাকা ফেরত চাই এবং সারাদেশে এ সমস্ত বক্তাকে বয়কট করার দাবি জানাচ্ছি।

এ ঘটনায় এম. হাসিবুর রহমান তার ফেসবুক পেজে স্ট্যাটাস দিয়ে জানান, গতকাল লক্ষ্মীপুরের একটা মাহফিল নিয়ে মিথ্যাচার চলছে। যারা সত্যতা যাচাই না করে নিজেদেরকে গুণাহের দিকে ধাবিত করেছেন আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে ক্ষমা করে দিন। একজন আলোচক মাহফিলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েও কতোটা কষ্ট পেলে রাস্তা থেকে ফেরত চলে আসেন তা আপনাদের বিবেকের কাছে প্রশ্ন রাখলাম। উনাদের একটাই অভিযোগ কিছু টাকার জন্য আমি মাহফিলে যাইনি। উনাদের অভিযোগ সত্য হয়ে থাকলে, আমি কেন মাহফিলের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হয়ে অর্ধেক রাস্তা থেকে আবার ঘরেই ফেরত এসেছি? উনারাই স্বীকার করেছেন আমি বাদ জুমা মাহফিলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করে ফেলেছি। তাহলে রাস্তায় এমন কি হল যার কারণে সাথে সাথে তাদের এডভান্স ফেরত দিয়ে রাস্তা থেকে আমাকে চলে আসতে হয়েছে?

তারা এটাও বলেছে , তাদের প্রোগ্রামে না গিয়ে অন্যকোথাও মাহফিল নিয়ে আমি চলে গেছি। বাস্তবতা হল গতকাল আমি কোথাও আর প্রোগ্রাম রাখিনি এবং বাড়িতেই ফেরত এসেছি। কোনো আয়োজক আলোচক দাওয়াত করে নিজেদের গাফলতির কারণে মেহমানকে সময়মতো প্রোগ্রামে হাজির করাতে পারলো না অতঃপর উপস্থিত শ্রোতাদের রো’ষানল থেকে বাঁচার জন্য মিথ্যার আশ্রয় নিলো আর আপনি সত্য উদঘাটন না করেই যা মন চায় তা বললেন/প্রচার করলেন এটা তো বে-ইনসাফী এবং জু’লুম। আল্লাহ তায়ালা আমাদের ক্ষমা করুন।
গতকাল মাহফিলের দিন ফজর থেকে বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত মাহফিল কমিটি নিজ থেকে কোনো যোগাযোগ করেনি। ব্যাপারটা এমন যে মেহমান দাওয়াত করে দাওয়াতকারী গাফেল। বিষয়টি আমাদের মনে সন্দেহের সৃষ্টি করে। আপনারা জানেন, গত দুইবছর আগে কুমিল্লার লাকসাম সহো বেশকিছু অঞ্চলে আমার উপর হামলা ও আমার গাড়ি ভাংচুরের পর থেকে কোনো কমিটির প্রতি সন্তুষ্ট হতে না পারলে ঐ প্রোগ্রামে আমি আর যেতে পারিনা। এটা আমার অপারগতা বলতে পারেন।
সকাল থেকে যোগাযোগ না থাকায় বিকাল সাড়ে ৩টার পর আমার ছোট ভাই জানতে চায়, আপনাদের যোগাযোগ নেই মাহফিল হবে কি না? জানালো-হবে তো রওয়ানা দেন। যোগাযোগে ও কথা-বার্তায় আন্তরিকতা না পেয়েও রওয়ানা দিলাম। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার পর আমার ছোট ভাই আবারো জানতে চাইলো মাহফিল হবে কী না? আপনারা মাহফিল নেয়ার সময় আপনাদের দেয়া ওয়াদা রক্ষা করেন নি এবং সকাল থেকে আপনারা যোগাযোগও করেন নি। আপনাদের দেয়া অগ্রিম খরচ কি পাঠিয়ে দিবো? তারা বিকাশ নাম্বার দিয়ে বললেন এই নাম্বারে পাঠিয়ে দেন। সন্ধ্যা ৭টার পর তাদের কথামতো সেই বিকাশ নাম্বারে আমরা তাদের সকল এডভান্স পাঠিয়ে দিয়েছি। তাদের গাফলতির কারণে আমরা যেতে পারলাম না অথচ তারা উপস্থিত শ্রোতাদের রোষানল থেকে বাঁচার জন্য মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে বললেন আমরা খরচ এডভান্স নিয়ে মাহফিলে যাই নি এবং সেটা ফেরতও দেই নি। আল্লাহ তায়ালা ভাইদেরকে ক্ষমা করুন।
মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.