খাস জমিতে বসবাসকারী ভূমিহীনের গাছ কাটার অভিযোগ, উচ্ছেদের হুমকি

 

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: 

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার উপকূলীয় সরল ইউনিয়নে খাস জমিতে বসবাসরত এক ভূমিহীন দিনমজুরের রোপণ করা গাছ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সাথে তাকে বসতভিটা ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগী কৃষক রৌশনুজ্জামান (৪৫) উপজেলার সরল ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের উত্তর সরল এলাকার মৃত মনিরুজ্জামানের পুত্র। তিনি পেশায় দিনমজুর। স্ত্রীসহ তার পরিবারে ৩ ছেলে ও ২ কন্যা সন্তান রয়েছে। অভাবের সংসারে তিনিই একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২৫ বছর ধরে উত্তর সরলের জলকদর খালের বেড়িবাঁধ সংলগ্ন সড়কের পাশে সরকারি খাস জমিতে বসবাস করছেন রৌশনুজ্জামান। খড়কুটো ও লবণ মাঠের তেরপাল দিয়ে তৈরি একটি ঝুপড়ী ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। আর্থিক সংকটের কারণে ঘরের ছাউনি টিন বা ছন দিয়ে সংস্কার করতে পারেননি। এমনকি সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় কোনো ঘরও পাননি এই পরিবার।

ভুক্তভোগীর দাবি, বসতঘরের পাশে তিনি রেইন্ট্রি (শিশু), নিম, কুলসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ১৫ থেকে ২০টি গাছ রোপণ করেছিলেন।

তার অভিযোগ, গতকাল দুপুরে কাথরিয়া ইউনিয়নের হালিয়াপাড়া এলাকার কমর উদ্দিনের ছেলে মো. আরিফ একদল লোক নিয়ে এসে সন্ত্রাসী কায়দায় তার রোপিত গাছগুলো কেটে ফেলে এবং জায়গা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেয়। পরে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

রৌশনুজ্জামান বলেন, ‘আমি দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে এখানে সরকারি খাস জমিতে বসবাস করছি। আমাকে সরাতে হলে সরকারই সরাবে। আমি ভূমিহীন মানুষ। ঘরের চাল দিয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে, অভাবের কারণে মেরামতও করতে পারিনি। স্ত্রী-সন্তানসহ সাত সদস্যের পরিবার নিয়ে এখানে থাকি। আমি কি এ অন্যায়ের বিচার পাব?’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোঃ আরিফ বলেন, এই জায়গাটি আমাদের পারিবারিক জায়গা, রৌশনুজ্জানের জায়গা জমি না থাকায়, আমার বাবা থাকে মৌলিক ভাবে থাকার জন্য দিয়েছিল। এখন আমাদের প্রয়োজনে আমরা গাছ গুলো কেটেছি। ওনি বিভিন্ন জায়গা ইমোশনাল ব্যল্কমেইল করে আমাদের কে হয়রানি করছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষকে থানায় বৈঠকের জন্য ডাকা হয়েছে। সেখানে ও তারা কোন কাগজ পত্র দেখাতে পারেননি।

সরল ইউনিয়ন পরিষদের চৌকিদার সামশুল আলম বলেন, ‘রৌশনুজ্জামান একজন অসহায় ভূমিহীন ব্যক্তি। তিনি দিনমজুর হিসেবে কৃষিকাজ করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে এখানে বসবাস করছেন।’ স্থানীয় বাসিন্দারাও একই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো.আলমগীর জানান, ‘ঘটনার বিষয়ে আমি অবগত। রৌশনুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে খাস জমিতে বসবাস করছেন। যে গাছগুলো কাটা হয়েছে, সেগুলোও খাস জমির মধ্যেই ছিল।’

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

 

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.