সাতকানিয়ায় রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তের অকটেনের আগুনে পুড়ে গেছে শতবর্ষীয় চণ্ডী বৈদ্য বাড়ির কাছারি ঘর। ঘটনার খবর পেয়ে সাতকানিয়া রাস্তার মাথা ফায়ার সার্ভিসের লোকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
গত বুধবার রাত দেড়টার দিকে উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের তেমুহনী চণ্ডী বৈদ্যের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। আগুন দিয়ে কাছারিঘর পুড়িয়ে দেওয়ার পর থেকে পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কে রয়েছেন বলে জানান। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এতে অন্তত ২০ লক্ষ টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে বলে পরিবারের লোকজন জানান।
জানা যায়, সাতকানিয়ার মধ্যে তেমুহনী চণ্ডী বৈদ্যের বাড়িটি অত্র এলাকায় খুবই সুপরিচিত। যেখানে কবিরাজী চিকিৎসার পাশাপাশি দেয়া হয় জ্বীন-পরীর কারণে অসুস্থ হওয়াদের চিকিৎসা। দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সাথে তারা বিভিন্ন রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে আসলেও সম্প্রতি এলাকার কিছু বখাটে যুবক তাদের কাছ থেকে চাঁদাদাবী ও নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে। বৈদ্য বাড়ির লোকজন চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা ক্ষিপ্ত হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, সম্প্রতি শেষ হওয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ইউপি সদস্য প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে মারামারিতে বেশ কয়েকজন ছুরিকাহত হয়। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়। পাশাপাশি দোকান-পাট বন্ধ রাখার জন্য শাসিয়ে যায় এক পক্ষ।এ নিয়ে এলাকায় এক ভীতিকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ঘটনার দিন রাতে এলাকার কিছু বখাটে মোটরসাইকেল যোগে চণ্ডী বৈদ্যের বাড়ি এলাকায় টহল দেয়। ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বের রেশ ধরে তারা সুযোগ বুঝে এ ঘটিয়ে নির্বাচনের দিন ঘটনার সাথে মিলিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারে ব্যস্ত রয়েছে। এলাকার লোকরা আরো জানান, চণ্ডী বৈদ্যর বাড়ির লোকজনের সাথে এলাকার মুসলিম সম্প্রদায়ের সাথে সুসম্পর্ক রয়েছে সেই আদিকাল থেকে। তারা এলাকার লোকজনকে বিভিন্নভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করে থাকে। তাদের সাথে এলাকার কারো সাথে বিরোধ নাই। তবু এলাকায় যারা তাদের অসুবিধার সৃষ্টি করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার দাবী জানান তারা।
পরিবারের সদস্য লিটন কান্তি সুশীল জানান, আমরা পাকা ঘরে ঘুমানো অবস্থায় ছিলাম। রাতের আধারে কে বা কারা অকটেন দিয়ে কাছারিঘর (রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হয়) ৭টি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। পরে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে ততক্ষণে কাছারিঘরগুলো পুড়ে যায়। এতে অন্তত ২০ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
কেঁওচিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রিপন দাশ সুজন জানান, বুধবার রাতে দুর্বৃত্তরা আগুন দিলে ঘরগুলো পুড়ে যায়। এতে চন্ডী বৈদ্য বাড়ির বিশাল একটি কাছারিঘর পুড়ে গেছে।
কেঁওচিয়া ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ওচমান আলী বলেন, চণ্ডী বৈদ্যের বাড়িতে রাতের অন্ধকারে দুর্বৃত্তরা আগুন লাগিয়ে দিয়ে কাছারিঘর পুড়িয়ে দিয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে গেলে পরিবারের সদস্যরা জানান, অকটেন দিয়ে কে বা কারা আগুন দিয়ে কাছারিঘর পুড়িয়ে দিয়েছে। সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ পুলিশের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
সাতকানিয়া রাস্তার মাথা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার হুমায়ুন কারনাইন জানান, কেঁওচিয়ার বৈদ্য বাড়িতে আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে দমকল বাহিনী নিয়ে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে তদন্ত করে পরে বলা যাবে।
সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আবদুল জলিল বলেন, কেঁওচিয়ায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে খোঁজ খবর নিয়েছে। আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে তদন্ত করে পরে বলা যাবে। এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।