মহেশখালী প্রতিনিধি
কক্সবাজারের মহেশখালীতে টেকসই বেডিবাঁধের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী। মঙ্গলবার (৩০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলার মাতারবাড়ি ইউনিয়নের ষাইটপাড়া গ্রামের বেড়িবাঁধের উপর এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
‘বছর বছর প্রতিশ্রুতি চাই না, জিও ব্যাগ দিয়ে সান্ত্বনা আর হবে না, আমরা চাই জানমাল রক্ষায় বেড়িবাঁধ’ এই স্লোগানে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, মাতারবাড়িতে নির্মাণ করা হচ্ছে সরকারের মেগা প্রকল্প কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্র। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাশেই করা হয়েছে গভীর সমুদ্রবন্দর। প্রকল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাগরে বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। যার কারণে ভাঙ্গতে শুরু করেছে সাইটপাড়ার বেড়িবাঁধ।
এসময় বজল নামে এক ভুক্তভোগী জানান, প্রতি বছর বেড়িবাঁধ ভেঙে গ্রামে সাগরের পানি প্রবেশ করে। এতে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, গরু ছাগল সহ বিভিন্ন স্থাপনা নষ্ট হয়ে যায়। গত পূর্ণিমার জোয়ারেও প্রায় ২০/২৫টি বসতঘর ভেঙে গেছে। সামনের পূর্ণিমার জোয়ারেও প্লাবিত হবে।
কালাম, বাদশা, আবদুল মালেকসহ কয়েকজন গ্রামবাসী বলেন, ‘বেড়িবাঁধের বাইরে আধা কিলোমিটার পর্যন্ত চর ছিল। কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে চর ভাঙতে শুরু করে। এখন বেড়িবাঁধের অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। শুধু গত বছরই বেড়িবাঁধের পাশ থেকে ভাঙনের কবলে পড়ে প্রায় ২০/২৫ টি পরিবার অন্যত্র চলে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন প্রতিবছর জিও ব্যাগ দিয়ে ভাঙ্গন রোধের চেষ্টা করে। কিন্তু পরের জোয়ারে তা আবারো ভেঙে যায়। আমরা চাই সরকার টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে আমাদের রক্ষা করুক।’
এসম মানববন্ধনে খুরশিদা আকতার, মুরশিদা, হুমায়রা বেগম সহ কয়েকজন গৃহিনী জানান- সাইটপাড়া গ্রামে প্রায় ৭’শ মানুষের বসবাস। বেড়িবাঁধ ভাঙার পাশাপাশি গ্রামে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। স্কুল-মাদ্রাসা না থাকার কারণে সন্তানরা পড়াশোনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এছাড়াও বেড়িবাঁধ ভাঙনের কবলে পড়ে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সরকারি বেসরকারি কোন সহায়তা পায়নি তারা। খোঁজ রাখেন না স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও।
তবে এই বিষয়ে জানতে মাতারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু হায়দারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। তিনি ফোন না ধরায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. তানজির সাইফ আহমেদ জানান, বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য জাইকার নিকট প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। চূড়ান্ত হলেও কাজ শুরু হতে সময় লাগবে। তবে যে অংশে বেড়িবাঁধ ভাঙছে, ঐ ঝুঁকিপূর্ণ অংশটুকু সরকারি অর্থ কিংবা জিওবির টাকায় করার পরিকল্পনা করছেন তারা। এক্ষেত্রেও কাজ শুরু করা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। এছাড়াও সাগর থেকে বালি নিতে না পারায় জিও ব্যাগ দেয়াও সম্ভব নয় বলেও তিনি জানান। কেন অস্বাভাবিক হারে বেড়িবাঁধ ভাঙছে সেই বিষয়ে জানতে চাইলে তার কাছে এ বিষয়ে কোন তথ্য নেই বলে জানান এই কর্মকর্তা।