গিলে খাচ্ছে কোটি কোটি টাকার কাঠ-মাটি, জরিমানা মাত্র সাড়ে ৫ লাখ!

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার ইটভাটাগুলো গিলে খাচ্ছে কোটি কেটি টাকার বনের কাঠ ও ফসলি জমির মাটি। কিন্তু এর বিপরীতে শুধু নামমাত্র জরিমানা করা হচ্ছে এসব ইটভাটাকে।
মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) দিনব্যাপী চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের এক অভিযানে ৩ ইটভাটাকে সাড়ে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন জানায়, কয়লার পরিবর্তে কাঠ ব্যবহার করায় ফোর বিএম ব্রিকফিল্ডকে এক লাখ টাকা, সৈয়দ মক্কী ব্রিকসকে আড়াই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
এইচ বি এম ব্রিক ফিল্ডের মালিক মো: ইকবালকে ইটভাটার পাশের কৃষিজমি হতে টপসয়েল কর্তনের দায়ে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
ভিন্ন অভিযানে উপজেলার ১নং চরতি ইউনিয়নের ব্রাহ্মণডাঙ্গা এলাকায় সাঙ্গু নদীর পাড়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ড্রেজিং এর ফলে উত্তোলনকৃত বালু অবৈধভাবে বিক্রির সময়ে সৈকত দাশ নামক এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করা হয়। এ সময় একটি স্কেভেটরসহ আনুমানিক ৫০ লক্ষ ঘনফুট বালু জব্দ করা হয় যার আনুমানিক বাজার মূল্য ৪ কোটি টাকা। সৈকত দাশকে ১ লাখ টাকা জরিমানা ও ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। জব্দকৃত বালু পরবর্তীতে নিলামে দেওয়া হয়।
অভিযান পরিচালনা করেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রতীক দত্ত। তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষায় উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন-২০১৩ অনুযায়ী বিনা লাইসেন্সে কেউ ইট তৈরি করতে পারবেন না। কোনো ব্যক্তি ইটভাটায় ইট পোড়ানোর কাজে জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার করতে পারবেন না। করলে তিনি অনধিক তিন বছরের কারাদণ্ড বা তিন লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
অথচ কাঠ ব্যবহার করায় ফোর বিএম ব্রিকফিল্ডকে মাত্র এক লাখ টাকা, সৈয়দ মক্কী ব্রিকসকে মাত্র আড়াই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
অন্যদিকে ১৯৮৯ সালের ইট পোড়ানো নিয়ন্ত্রণ আইন (সংশোধিত ২০০১) অনুযায়ী, কৃষিজমির টপ সয়েল বা উপরিভাগের মাটি কেটে শ্রেণি পরিবর্তন করাও সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ রয়েছে। দুই আইনে শাস্তির বিধান একই রকম। এসব কাজে জড়িত ব্যক্তিদের দুই লাখ টাকার জরিমানা ও দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
একই কাজ দ্বিতীয়বার করলে দায়ী ব্যক্তির ১০ লাখ টাকা জরিমানা ও ১০ বছরের কারাদণ্ড হবে। এ ক্ষেত্রে এ কাজের সঙ্গে জড়িত জমি ও ইটভাটার মালিক উভয়ের জন্যই সমান শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.