পটিয়ায় ২ অস্ত্রধারী গ্রেফতার; ৪টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিপুল দেশিয় অস্ত্র উদ্ধার

 

পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি :

চট্টগ্রামের পটিয়ায় ডিবি পুলিশের দুর্ধর্ষ অভিযানে কেলিশহরের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে ২ জন অস্ত্রধারীকে গ্রেফতার করে। তাদের কাছ থেকে ৪টি আগ্নেয়াস্ত্র,বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র ও ২টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত আলামতের মধ্যে রয়েছে ২টি একনলা বন্দুক,২টি দেশীয় তৈরি এলজি,৬টি কিরিচ,৫টি রামদা,১টি দামাদা,১টি লোহার কাটার,২টি মোবাইল ফোন।

শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো: মাসুদ আলম এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এতথ্য জানান। তিনি বলেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাস দমন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে পুলিশের জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) একটি সাহসী ও সফল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল পটিয়া উপজেলার  কেলিশহর ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ২ জন অস্ত্রধারীকে গ্রেফতার করে।

পুলিশ সুপার বলেন,দুর্গম পাহাড়ি পথ, প্রতিকূল পরিবেশ এবং সম্ভাব্য সশস্ত্র প্রতিরোধের ঝুঁকি উপেক্ষা করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরিচালিত এ অভিযানে পুলিশ সদস্যরা অসীম সাহসিকতা, ধৈর্য ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দেন। অভিযানে গ্রেফতারকৃত আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কেলিশহর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ইন্নারপাড়া এলাকায় গ্রেফতারকৃত আসামি মোঃ দেলোয়ার হোসেনের বসতঘরের খাটের নিচে তল্লাশি চালিয়ে ৬টি কিরিচ, ৫টি রামদা, ১টি দামাদা, ১টি লোহা কাটার এবং ২টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে একই এলাকার ছাতিভাঙ্গা আফছারের গাছবাগান এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে লুকিয়ে রাখা ২টি একনলা বন্দুক ও ২টি দেশীয় তৈরি এলজি উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন, কেলিশহর ইউনিয়নের ০৬নং ওয়ার্ড ইন্নারপাড়া ছদু মিয়ার বাড়ির মৃত মোঃ দুলা মিয়ার ছেলে মোঃ দেলোয়ার হোসেন (৫৪) ও একই এলাকার নুরে আলম পুচুমের ছেলে মোঃ মহসিন (৩৩)।

তিনি আরো বলেন,প্রাথমিক তদন্তে জানা যায় , উদ্ধারকৃত আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রসমূহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে মজুত রাখা হয়েছিল।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ অপরাধ, সন্ত্রাস এবং অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলসহ জেলার প্রতিটি এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

জীবনবাজি রেখে পরিচালিত এ সফল অভিযান জেলা পুলিশের পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা এবং অপরাধ দমনে দৃঢ় অঙ্গীকারের আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য সহযোগী, অস্ত্রের উৎস এবং সম্ভাব্য সন্ত্রাসী চক্রকে শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে জেলা ডিবি পুলিশের অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.