সাতকানিয়ায় ওসি তারেক মুহাম্মদ আব্দুল হান্নানের কঠোর নজরদারীতে চলছে ভোট গ্রহণ
বন্ধ হওয়া ৪টি কেন্দ্রে আজ নির্বাচন
সৈয়দ আককাস উদদীন সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম)
সাতকানিয়া অতীতের সকল সহিংসতা রোধ করতে সবকয়টি ভোট কেন্দ্রকে নিরাপত্তার চাদরে মুড়িয়ে সাতকানিয়ায় ৭ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্থগিত হওয়া ৩ ইউনিয়নের ৪ ভোট কেন্দ্রেগুলোতে আজ (সোমবার) পুনঃ ভোটগ্রহন করা হচ্ছে
অন্যদিকে,নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে শেষ করতে আইন-শৃঙ্খলাসহ সকল ধরণের প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউএনও ও থানার ওসি। সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, কাঞ্চনা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড উত্তর কাঞ্চনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খাগরিয়ার ৬নং ওয়ার্ড খাগরিয়া বোর্ড অফিস, ৭নং ওয়ার্ড গণি পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কালিয়াইশের ৯নং ওয়ার্ড বুদাগাজী পাড়া ফোরকানিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রগুলোতে পুনঃভোট গ্রহণ করা হচ্ছে।
৩ ইউনিয়নের মধ্যে চেয়ারম্যানপদে নির্বাচন হবে কাঞ্চনা ও খাগরিয়া ইউনিয়নে। ইউনিয়নগুলোর মধ্যে কাঞ্চনা ৩নং ওয়ার্ডে সাধারণ সদস্য পদে ৫ জন, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ২জন, কালিয়াইশের ৯নং ওয়ার্ডে সাধারণ সদস্য পদে ৪জন,সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ২জন, খাগরিয়া ৬নং ওয়ার্ডে সাধারণ সদস্য পদে ৫জন,সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ৪জন এবং ৭নং ওয়ার্ড সাধারণ সদস্য পদে ২জন ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ২জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
জানা যায়, চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারী সাতকানিয়া উপজেলার ১৬ টি ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত হয় সপ্তম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। নির্বাচনের দিন ও নির্বাচনের আগে চরতি, কাঞ্চনা, সোনাকানিয়া, ধর্মপুর, বাজালিয়া ও খাগরিয়ায় বিভিন্ন সময় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এরই ধারাবাহিকতায় নির্বাচনের দিন খাগরিয়াসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে সংগঠিত হয় ব্যাপক সংঘর্ষ ও চলে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া। শুরু হয় পাল্টা পাল্টি গোলাগুলি।
যা দেশী—বিদেশী প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় অস্ত্রসহ সন্ত্রাসীদের ছবি ফলাও করে প্রচার ও প্রকাশিত হলে প্রশাসনসহ সারা দেশব্যাপী শুরু হয়ে তোলপাড়। সংঘর্ষ চলাকালীন বিভিন্ন স্থানে গুলিবিদ্ধ ও সংঘর্ষে আহত হওয়ার ঘটনা ঘটলেও বাজালিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী তাপস কান্তি দত্ত ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শহিদুল্লাহ চৌধুরী সমর্থকদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় ২নং ওয়ার্ডে আবদুল শুক্কুর নামে এক ব্যক্তি নিহত হন।
নলুয়া ইউনিয়নে ৮নং ওয়ার্ডে সংঘর্ষে মরফলা বোর্ড অফিস কেন্দ্রে দায়ের কোপে মো. তাসিফ নামে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্র নিহত হন। আবার ঘটনার পর পরই নির্বাচনী সহিংসতায় জড়িত থাকা বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসীকে র্যাব ও পুলিশ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করতে সমর্থ হন।
এর মধ্যে ১৩ ফেব্রুয়ারী নির্বাচন কমিশন নির্বাচিত চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করলেও উল্লিখিত ৩ ইউনিয়নের ৪ ওয়ার্ডের গেজেট প্রকাশ স্থগিত রাখেন নির্বাচন কমিশন। পরবর্তীতে ১৫ মার্চ নির্বাচন কমিশনের অপর আরেকটি আদেশে স্থগিত হওয়া কেন্দ্রগুলোর পুনঃভোট গ্রহণ আজ (২১মার্চ) হচ্ছে বলে জানানো হয়।
অন্যদিকে, নির্বাচনের দিন সহিংসতায় আহত ও নিহতসহ বিভিন্ন সংঘর্ষের ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামানকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে নির্বাচন কমিশন। ওই তদন্ত কমিটি বিগত ১৪মার্চ ঘটনা সংগঠিত স্থানসমূহ পরিদর্শন করেন।
এ ব্যাপারে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবু তালেব মণ্ডল বলেন, ৪টি ভোট কেন্দ্রে ১৯টি বুথের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ৪ কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারসহ ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা স্ব স্ব কেন্দ্রে পৌঁছে কার্যক্রম চালাচ্ছেন।
সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারেক মোহাম্মদ আবদুল হান্নান বলেন, অতীতের মত যাতে কোন ধরনের সহিংসতা না হয় সে জন্য প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে
অতীতের মত যাতে কোন ধরনের সহিংসতা না হয় সে জন্য প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর আছে।
এজন্য প্রতি কেন্দ্রে অফিসারসহ ২০ জন পুলিশ, ১৭জন আনসার, ১০জন পুলিশের সমন্বয়ে একটি মোবাইল টিম ও ৮/১০ পুলিশ নিয়ে একটি স্ট্রাইকিং ফোর্সের টিম আছে।সব মিলিয়ে একটি কেন্দ্রে ৫০জনের অধিক পুলিশ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন। পাশাপাশি টহলরত অবস্থায় থাকবে বিজিবি ও র্যাব সদস্যরা। আশা করি পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পর্যাপ্ত উপস্থিতিতে ভোট গ্রহণ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হচ্ছে। এ ছাড়া যে কোন পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক এ্যাকশনে যাবে পুলিশ।

সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা তুজ জোহরা বলেন, কোন ধরনের অঘটন ছাড়াই নির্বাচন শেষ করতে সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। পুলিশ-আনসার ছাড়াও প্রতিটি কেন্দ্রে ১জন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও প্রতিটি ইউনিয়নে ১জন করে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত আছে। আজকের ভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে গতকাল সকালেও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক শেষ করেছি।