চবির সেই শিক্ষক রেজাউল করিমকে নিয়ে ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে কী?

নিজস্ব প্রতিবেদক

তাঁর প্রধান পরিচয় তিনি শিক্ষক। কখনো মানবতার বিপর্যয়ে তিনি হয়ে উঠেন ত্রাণকর্তা। আবার রাজনীতির মাঠে তিনি পুরোদস্তুর রাজনীতিবিদ। আবার সমাজকর্মীর তিলকও উঠেছে তাঁর কপালে। পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়নে তিনি কাজ করে চলেছেন অবিরত। বলছিলাম৷ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রেজাউল করিমের কথা।

করোনায় যখন শিক্ষার্থীদের অনেকেই টিউশন হারিয়ে কষ্টে দিনাতিপাত করছে তখনই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম কোনো শিক্ষক হিসেবে লাখ লাখ টাকা হাতে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের শিক্ষক রেজাউল করিম। শীতার্ত মানুষ যখন পথের ধারে ঠান্ডায় কাপছিল তখন তাদের গায়ে কম্বল মুড়িয়ে দিয়েছেন তিনি শত শত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শত শত কর্মচারীর পাশাপাশি করোনাকালে হাজারো অসহায় দরিদ্রের ঘরে পাঠিয়েছেন তিনি খাদ্যসামগ্রী। আবার নিজ উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘এসো মানুষের জন্য করি কিছু করি’ প্লাটফর্ম চালু করেন রেজাউল করিম। তার এই প্লাটফর্মে যুক্ত হয়ে বিত্তশালীলা হাজার হাজার মানুষকে খাদ্যসঙ্কট সহায়তা দিতে এগিয়ে আসে। এসব করতে গিয়ে দৈনিক প্রথম আলো, দৈনিক পূর্বকোণ, বাংলানিউজ, যমুনা টেলিভিশনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের শিরোনামও হয়েছে তিনি।

রেজাউল করিম শিক্ষকতার মহান পেশাদারী আয়োজনের পাশাপাশি চবির সহকারী প্রক্টর ও একটি বড় হলের প্রভোস্টের দায়িত্বও পালন করে চলেছেন তিনি। আবার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবেই জড়িত এই শিক্ষক। ছাত্র থাকাকালীন সময় থেকেই ছাত্রলীগের রাজনীতি জড়িত রেজাউল করিম বর্তমানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপ কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ কম্পিউটার সোসাইটির সহ সভাপতিও তিনি।

২০১২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারী ছাত্রশিবির ও ছাত্রলীগের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় সহকারী প্রক্টর ছিলেন রেজাউল করিম। শিবিরের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের কবল থেকে সেদিন ছাত্রলীগের কর্মীদের রক্ষা করতে সংঘর্ষস্থলেই বুলেট-বোমার মুখোমুখি হয়ে আলোচনায় এসেছিলেন এই শিক্ষক রেজাউল করিম।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সেলিব্রেটি শিক্ষক সম্প্রতি মুখোমুখি হন চট্টগ্রাম সংবাদের। চট্টগ্রাম সংবাদের কাছে তিনি খুলেন তার আনন্দ-বেদনার নানা স্মৃতির ঝাপি। বর্তমান শিক্ষকতা পেশা, রাজনীতির নানা বিষয়েও আলোচনা করেন তিনি।

রেজাউল করিম বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়াত উপাচার্য প্রফেসর ড. আবু ইউসুফ স্যারের সময়েই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে আমি যোগদান করি। তখন বিএনপি-জামাতের দুঃশাসনের অবসান হল মাত্র।  ওই সময়ে একজন আওয়ামীপন্থি শিক্ষক হিসেবে কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগে যোগদান করে শিক্ষকতা পেশা চালিয়ে যাওয়া সত্যিই কঠিন বিষয়।’

শিক্ষকতা পেশাকে বেছে নেয়ার কারণ জানতে চাইলে রেজাউল করিম বলেন, ‘আমার ছোটবেলার স্বপ্ন ছিল মানুষের পাশে দাঁড়ানো। আরও স্বপ্ন ছিল নিজে জেনে তা অন্যকে জানানো। দুইটা বিষয়ই আমাকে খুব টানতো। তাই মনে করেছি শিক্ষকতা পেশায় জড়ালে প্রচুর পড়াশুনা করা যাবে। পাশাপাশি সামাজিকভাবে মানুষের পাশেও ভালভাবে দাঁড়ানো যাবে। দেশ ও দশের প্রয়োজনে নিজের সর্বোচ্চ ত্যাগও স্বীকার করতে পারবো আমি এই পেশায় থেকে।’

শিক্ষকতা ও রাজনীতি দুইটাই সমানতালে চালিয়ে যাওয়াকে চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে রেজাউল করিম বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ভিত্তি ধরেই আমি রাজনীতি চর্চা করছি। আমরা পারিবারিক ভাবেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আমার বোন জেসমিন পারভিন জেসি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের একজন কাউন্সিলর। তামে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাই মনোনয়ন দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ সর্বদা চির-উন্নত রাখতে কোনো পেশাই বাধা হতে পারে না। বরং শিক্ষকতার মাধ্যমে এদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, জাতির পিতার এ দেশ গড়ার যে সংগ্রামী জীবন এসব বিষয়ে আমি ক্লাসরুমে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছি। প্রজন্মের কাছে একমাত্র শিক্ষকরাই এ দায়িত্ব পালন করতে পারে সহজেই। তাই আমি মনে করি শিক্ষকতার পাশাপাশি রাজনীতি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিকরা অনায়াসে করতে পারে।’

রাজনীতি করতে গেলেতো সমালোচনা হয়- এমন প্রশ্নের জবাবে রেজাউল করিম বলেন,’সমালোচনা বা আলোচনা কোনোটার জন্যই রাজনীতি আমি করিনা। আমি রাজনীতি করি, শুধুমাত্র মানুষের পাশে থাকার জন্য। বঙ্গবন্ধু ও জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আনুগত্য থেকেই রাজনীতি করি। রাজনীতি করি বলেই ব্যক্তিগতভাবেও আমি আক্রমণের শিকার হই। কিছু কিছু মানুষ স্বভাবতই হিংসুটে, পরশ্রীকাতর। আরেকজনের এগিয়ে যাওয়া, সমাজের পাশে দাঁড়ানোকে সহ্য করতে পারে না।’

সম্প্রতি একটি অনলাইন পত্রিকায় তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে একটি হাস্যকর ও অবান্তর প্রতিবেদন হয়েছে উল্লেখ করে রেজাউল করিম বলেন, ‘আমার শ্যালিকার গায়ে হলুদের প্রোগ্রামে আমার স্ত্রী ও আমি নেচেছিলাম। এটি কয়েকবছর আগের প্রোগ্রাম। ফেসবুক মেমোরি ‘শো করায় তা আমার ব্যক্তিগত আইডিতে আবারও শেয়ার করা হয়েছে। নিজের ভাই, বোন, শ্যালক-শ্যালিকার বিয়েতে পারিবারিক আত্মীয়স্বজনদের নিয়ে আনন্দ করাকে কখনোই কোনো ভাল মানের সাংবাদিক নোংরাভাবে উপস্থাপন করতে পারে না। নোংরা মানসিকতার হলেই কেবল তা সম্ভব। তাছাড়া সস্তা জনপ্রিয়তা পেতেও তারা এই প্রতিবেদন করে থাকতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগত ও পারিবারিক প্রোগ্রামের ছবি ভিডিও ফেসবুকে প্রতিনিয়ত আমরা শেয়ার করি। শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার কারণে পারিবারিক প্রোগ্রাম নিয়ে তারা আমার সমালোচনা করার ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়েছে। কারণ বোন কিংবা শ্যালক-শ্যালিকার বিয়েতে আনন্দ করাকে যারা নিতে পারে না তারা মজ্জাগতভাবে প্রগতিশীল নয় বলেই মনে করে সমাজ। বাংলাদেশে সংস্কৃতির সঙ্গেই এখন জড়িয়ে গেছে গায়ে হলুদের আয়োজন। যেখানে আত্মীয়স্বজন আনন্দ করে।’

রেজাউল করিম বলেন, ‘যদি কেউ অশ্লীলভাবে কিছু করে তা ফেসবুকে দেয় সেটা নিয়ে গণমাধ্যম সমালোচনা করতেই পারে। আমি আর আমার চিকিৎসক স্ত্রী একসাথেই নেচেছি আমার স্ত্রীর বোনের বিয়েতে এবং তা শত শত আত্মীয়স্বজনের সামনে। যদি প্রতিবেদকের বোন থাকে, বা শ্যালিকা থাকে তাহলে তাদের বিয়েতে তিনিও নিশ্চয় সুযোগ পেলে আনন্দ করতে ভুলে যাবেন না। নিশ্চয় তা তিনি ফেসবুকেও দিতে পারেন। তবে তা যেন শালীনতার মধ্যেই হয়। আমরা অশালীন কিছু করিনি যে গণমাধ্যম তার সমালোচনা দাঁড় করাতে পারে। তবে আমার শুভাকাঙ্ক্ষীরা বলছেন, ওই পত্রিকার অনলাইন ভার্সন থেকে তারা এ ধরনের হাস্যকর প্রতিবেদন আশা করেনি। মানুষ হাস্যকর ভাবেই তাদের ওই ব্যক্তিগত আক্রোশের প্রতিবেদনটি প্রত্যাখ্যান করেছে।’

রেজাউল করিমের ভাষ্য, ‘ওই পত্রিকা লিখেছে, ‘শিক্ষক হলেই যে তার ব্যক্তিগত স্বাদ-আহ্লাদ থাকবে না, তিনি নাচ-গান করতে পারবেন না এমন দিব্যি নেই। তাই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রেজাউল করিম তার শ্যালিকার বিয়েতে নেচে-গেয়ে মাতিয়েছেন, তা দোষ কিংবা অপরাধের কিছু নয়। কিন্তু প্রশ্ন তৈরি হয়, গানের তালে তালে স্ত্রীর সাথে যৌথভাবে জম্পেশ নাচের ভিডিওটি যখন তিনি কিছুদিন পরপর ফেসবুকে শেয়ার দিয়ে নৃত্যের পারঙ্গমতা জানান দেওয়ার পাশাপাশি সস্তা লাইক-কমেন্ট আশা করেন তখনই।

পত্রিকাটি আরও লিখেছে, ‘নিজের নাচের ভিডিও কিছুদিন পর পর ফেসবুকে পোস্ট বা শেয়ার দিয়ে তিনি বালখিল্যতার পরিচয় দিচ্ছেন। এই আচরণ ব্যক্তিত্ববান ও রুচিশীল শিক্ষক মানসিকতার পরিপন্থী এবং দৃষ্টিকটু।’

এ বিষয়ে আমি বলবো, ‘আমার স্ত্রী সাথে শ্যালিকার বিয়েতে নাচের ভিডিওতে আমার ফেসবুক বন্ধুরা লাইক দিবেন বা কমেন্ট করবেন এটা একদমই স্বাভাবিক। আমিও চাইবো অন্য সবার মত সবাই তা দেখুক, মন্তব্য ও অনুভূতি প্রকাশ করুক। প্রযুক্তির এ সময়ে এসে ফেসবুক বিষয়ে এমন প্রতিবেদন হাস্যকর।’

রেজাউল করিম আরও বলেন, ‘প্রথম আলো, পূর্বকোণ, বাংলানিউজ, যমুনা টেলিভিশনসহ দেশের খ্যাতনামা গণমাধ্যমগুলোর মাধ্যমে দেশের মানুষ জানে আমি কেমন চরিত্রের মানুষ। আমার রাজনৈতিক, সামাজিক কর্মকাণ্ড নিয়ে অসংখ্য প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে গণমাধ্যমে। আবার তাই বলে কেউ আমার সমালোচনা করতে পারবে না, তাও নয়। কারণ আমি জনগণের জন্য, মানুষের জন্য, আওয়ামী লীগের জন্য, আমার শিক্ষার্থীদের জন্য নিজেকে নিবেদন করেছি।’

https://dainikpurbokone.net/national/171609/%E0%A6%A6%E0%A7%81%E0%A6%83%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%9F%E0%A7%87-%E0%A6%86%E0%A6%B2%E0%A7%8B-%E0%A6%9B%E0%A7%9C%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A7%87%E0%A6%9B%E0%A7%87%E0%A6%A8-%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%B0/

https://www.banglanews24.com/daily-chittagong/news/bd/787302.details?fbclid=IwAR2pQExHn65foTRXkkG0jcolayEBtU8mGDekIYhW7kwtqomAGTglyN0UWfY

https://m.banglanews24.com/daily-chittagong/news/bd/786057.details?fbclid=IwAR3M_yjcL5vRSxj0g_oRDY8YQ1WV2YkvjmztU7i9_QzPKMYvV9DOcY_rb74

http://albd.org/bn/articles/news/33576/%E0%A6%9A%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A6%97%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%AE-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%9F%E0%A7%87-%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A5%E0%A7%80-%E0%A6%93-%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%A8-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%81%E0%A6%B7%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%B6%E0%A7%87-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%9F%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%B9%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A6%B0?fbclid=IwAR32HZ_tBYzoDDrnAONAuKybE0cjQbNNKjlf-JpHkH84no1AdjZ6EhyRIiw

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.